বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:০৪ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
🏘 অফিস এর ঠিকানা: অল আইটি বিডি, জিএস ভবন (১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা),আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠের পশ্চিমে, শেরপুর রোড, সাতমাথা, বগুড়া।
গত ৯ মাসে আট শতাধিক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন
/ ২৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

ফয়সাল হক খন্দকার:- বাংলাদেশে ৯ মাসে ৮৫৬ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৫৮ জন নারী, আর ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৭১ জন নারী। তবে আতঙ্কজনক খবর হল এই ৯ মাসের মধ্যে নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৩৩৬ জন নারী। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ১৪টি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করে তারা। তবে সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ মনে করেন এ সংখ্য আরও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ৯ মাসে শুধু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৯৭ জন, গণধর্ষণের শিকার ১৫৮ জন, ধর্ষণের পর হত্যা ৭১ জন, ধর্ষণের চেষ্টা ১১১ জন, উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ২৯৩ জন, হত্যার শিকার ৫০০ জন, হত্যার চেষ্টা ৩৬ জন, রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ১১০ জন, শ্লীলতাহানীর শিকার ৭৯ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ২৭ জন, পিতৃত্বের দাবি ৭ জন, এসিডদগ্ধ ২৯ জন, অগ্নিদগ্ধ ২৮ জন, অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যবরণ ১৭ জন, অপহরণের শিকার ৬৫ জন, নারী ও শিশু পাচার হয়েছে ৪৬ জন, পতিতালয়ে বিক্রি হয়েছে ১৫ জন, যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১৬১ জন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন করা হয়েছে ১৪১ জন, শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ২২২ জন, গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার ৩২ জন, গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের শিকার ২৮ জন, আত্মহত্যা করেছেন ২৩১ জন, আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন ১০ জন, আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন ৭ জন, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছন ১৬ জন, প্রেম প্রত্যখানে ৬ জন, ফতোয়ায় নারী নির্যাতনের শিকার ২৭ জন, বাল্যবিবাহের শিকার ৬৭ জন, পুলিশী নির্যাতনের শিকার ৩৫ জন, জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়েছে ৫ জন নারী এবং অন্যান্য হিসাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫৭ জন নারী।
লোমহর্ষক ঘটনা হিসাবে এ প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে, সাভারের জিঞ্জিরা এলাকায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী রবিউল, তার দুই ভাই এবং এক বোন মিলে ইলেক্ট্রিক টেস্টার দিয়ে গৃহবধুর এক চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনা। পাশাপাশি ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে মেয়েকে শশুড়বাড়ী না পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হয়ে জামাতা কামাল পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন দিয়ে মা-মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যর বিষয়টি। একই সাথে রয়েছে মাদারীপুরের শিবচরে ভাসুর তার বখাটে বন্ধুদের নিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে গণধর্ষরণর বিষয়টি।
এ অবস্থা থেকে নারী নির্যাতনের হার কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মনে করে, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ঐক্যবদ্ধভাবে নারী ও কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, নারীর স্বাধীন চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নারীদের পাশাপাশি পুুরুষদের সম্মিলিতভবে কাজ করতে হবে, এবং নারী ও কন্যশিশুর প্রতি বিরাজমান পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন আনতে হবে।
সামাজিক মূলবোধ কমে যাওয়ার কারণে এখন নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে- লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির ক্রিমিলজী স্টাডিজ বিভাগের গবেষক মাধব রায় ইমেইলে ব্রেকিংনিউজকে জানান, বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের মূল কারণ সামাজিক মূল্যবোধ কমে যাওয়া। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাকেও দায়ি করছেন তিনি।
এ বিষয়ে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, পরিবারের মধ্যেই নারী ও শিশু নির্যাতনের হার বড়ছে। পরিবারের মধ্যেই যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায় তাহলে আমরা কোথায় দাড়াবো। তাই নারী নির্যাতন রোধে পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া কোন বিকল্প নাই। সূত্র: www.muktirbarta.com

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
Our Like Page